Army and Nation – by Steven I. Wilkinson

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্টিভেন উইলকিনসন’এর লেখা এই বইটার কথা শুনেছিলাম শেখর গুপ্তার দ্য প্রিন্ট’এর “ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট” সিরিজে বাবু জগজীবন রামের ওপরে একটা YouTube ভিডিওতে – তারপরে সেটা নিয়ে একটু গবেষণা করতে গিয়ে মনে হয় বইটা পড়েই ফেলি।

বেসিক প্রেমিস-টা সোজা। ইংরেজ শাসন থেকে বিংশ শতাব্দীতে বেরিয়ে আসা প্রায় সমস্ত দেশ’ই কোনো না কোনো সময়ে সামরিক একনায়কতন্ত্রের অধীন থেকেছে, আর বেশির ভাগ দেশেই গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের তুলনায় সেনাবাহিনী বেশি ক্ষমতাধর – কূ এর ঘটনাও খুব’ই স্বাভাবিক। এর মূল কারণ হলো যে ব্রিটিশেরা তাদের দেশীয় সৈন্যবাহিনী গড়ে তোলে একটা ‘Divide and rule’ পদ্ধতিতে, যেখানে দেশীয় সৈন্যবাহিনীতে শুধু দু-তিন ধরণের martial races দেরকেই প্রাধান্য দেয়া হতো। সেজন্যই, স্বাধীনতার পরে এই টাইপের সেনাবাহিনী গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত এবং প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতো না – পরিনাম : সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর মতভেদ। ন্যাচারালি একটা নতুন তৈরী হওয়া দেশের গণতান্ত্রিক সরকার প্রথম দিকে কিছুমাত্রায় দুর্বল হয়, কিন্তু সৈন্যবাহিনী তো আর দুর্বল থাকে না … সেই থেকেই আসে সামরিক একনায়কতন্ত্র।

ভারতে কিন্তু সামরিক একনায়কতন্ত্র কখনোই হয় নি। ভারতের গণতান্ত্রিক সরকার যে সবসময় শক্তিশালী ছিল তা কিন্তু নয়। যদিও সহ-সৃষ্ট দেশ পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর জাতীয় শাসন ব্যবস্থায় disproportionate রকমের প্রভাব রয়েছে। এক দেশে সেনাবাহিনী রাজনীতি থেকে দূরে থেকেছে, অন্য দেশে সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ করেছে। বার্মায়, বাংলাদেশেও সামরিক একনায়কতন্ত্র এসেছে। ঘানা, নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়াতেও। তাহলে ভারত ব্যতিক্রমী কেন? এই প্রশ্নর’ই উত্তর দেয়ার চেষ্টা করে এই বই।

ভারী, জ্ঞানগর্ভ, একাডেমিক বই – কিন্তু অনেক কিছুই জানতে পারলাম। কোনো সোজা উত্তর নেই – আর না হওয়াই স্বাভাবিক। It’s essentially the same populace – এক’ই ইতিহাস, এক’ই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। সময় নিয়ে পড়ার মতন বই – খান’কয়েক পয়েন্ট এবং হাইলাইট দিলাম নিচে।

১. দুই দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলের সামাজিক ভিত্তি : ভারতজুড়ে কৃষক ও মধ্যবিত্তের একটি বড় অংশ কংগ্রেসকে সমর্থন করতো (অল থ্যাংকস টু দ্য গ্রেট ন্যাংটাবুড়ো অভ কোর্স)। নেহেরুর কংগ্রেস চরিত্রগতভাবে সচেতনভাবে ডেমোক্রেটিক ছিল, বিভিন্ন ভাষাগত ও জাতিগত গোষ্ঠীকে যথাযথ প্রতিনিধিত্ব দিত (হাঃহাঃ সে কংগ্রেস তো আর আজকের কংগ্রেস পারিবারিক লিমিটেড কোম্পানি নয়)।
অন্যদিকে, মুসলিম লীগের একটি অভিজাত এলিট বেস ছিল, বড় জমিদার ও সমাজের এলিটশ্রেণীর লোকজনের সমন্বয়ে তৈরী – যারা কখনোই সমাজের মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্ত শ্রেণীর রিপ্রেসেন্টেটিভ হয়ে ওঠেনি। সেজন্যই পাকিস্তানি জনসাধারণের কাছে মুসলিম লীগ পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর counterweight হয় ওঠেনি।

২. ব্রিটিশরা যদিও martial race এর ভিত্তিতে divide and rule করেছিল পুরো অবিভক্ত ভারতেই, দেশভাগের পরে পাকিস্তানের ভাগ্যে যে সেনাবাহিনীটা পড়ে থাকে সেইটা একটু বেশি অসমান হয়ে গেছিলো ভারতের তুলনায়। পাঞ্জাবি মুসলমানরা পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর ৭০%এর’ও বেশি ছিল – আর এখনো হয়তো সেরকম’ই আছে। ভারতেও পাঞ্জাবি শিখ এবং হিন্দুদের ভাগও অন্যদের তুলনায় বেশি ছিল – প্রায় ২০% – কিন্তু not overwhelmingly so ।

৩. ইতিমধ্যে, স্বাধীনতার পরের থেকেই ভারত সরকার দেশের অন্যান্য অংশ থেকে লোক নিয়ে সেনাবাহিনীকে ‘rebalance’ করার চেষ্টা শুরু করেছিল। আর সাধারণ জীবনযাপনে সেনাবাহিনীর স্ট্যাটাসকে সামান্য একটু ক্ষুন্ন করা। (একটা কথা বলে রাখি: এই শেষের ব্যাপারগুলো যে কখনো counterproductive হয়নি তা নয় – নেহেরুর অধীনে কৃষ্ণমেনন বেশ দুর্বল প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন এবং তাঁর অধীনে ভারতের সামরিক শাসনব্যবস্থা দুর্বল হয়ে ওঠে, এবং ভারত চীনের বিরুদ্ধে 1962 সালের যুদ্ধে হেরে যায় – যশোবন্তরাও চবন, আর তারপরে জগজীবন রাম এসে তার পুনরুজ্জীবন করেন)।

বোকাবোকা simplistic সোজা উত্তর পাবেন না এই বইটিতে।

বিশ্বের কোনো গণতন্ত্রই ঠিক অন্য আরেকটা দেশের মতো একইরকম গণতন্ত্র নয় – কিন্তু ভারতের গণতন্ত্র মৌলিকভাবে শক্তিশালী, এবং এর একাধিক কারণ রয়েছে। এই বইটি এর একটি ধারার বিশ্লেষণ করে।
পড়ে অনেক কিছু জানতে পারলাম।

Previously published on Goodreads.

Posted in 01.Blog, Recently Read, Review, Unpublished | Tagged , , , , , , , , , , | Leave a comment

নারায়ণ দেবনাথ (১৮/জানুয়ারি/২০২২)

তখনকার আসানসোল একটা ছোট্ট জায়গা ছিল- এইদিকে বার্নপুর কুলটি, ঐদিকে সেনর‍্যালে, অন্যদিকে ধেমোমেন, আর রেলপার মানে একলাফেই ধরে নিন কালীপাহাড়ি – শিল্পনগরের বৃহৎ কারখানা-বসতিগুলির মাঝখানে আমাদের খুদে আসানসোল টাউন। সেই খুদে আসানসোল টাউনের এককোণে আমাদের আপকারগার্ডেন, অন্যকোণে দিদারবাড়ি – হাটন রোড। পা চালিয়ে হাঁটলে পৌনে এক ঘন্টায় এবাড়ি থেকে ওবাড়ি। যদিও আমরা যেতাম বাবার স্কুটারে। প্রতি শনিবার সকালে- সেদিনের খাওয়াদাওয়া দিদারবাড়িতেই হতো।

সেই শনিবারের কাঠফাটা রোদ্দুর দুপুরবেলা, সেই দিদারবাড়ির চিলেকোঠায় সামান্য হলদে হয়ে যাওয়া গুচ্ছগুচ্ছ পুরোনো কিশোর ভারতী- সেই ব্ল্যাক ডায়মন্ড, সেই ইন্দ্রজিৎ রায়। কী সব নাম গল্পগুলোর- কাছেই মোহানা, স্টেশন মুকুটমণিপুর, সন্ধ্যার মহূয়ামিলন! ওঃ কী থ্রিল!

নারায়ণবাবু চলে গেলেন । দুঃখ নয়, দুঃখ নয়, শুধু কীরকম একটা খালি খালি ভাব।

I grow old… I grow old…

ইন্দ্রজিৎ রায় ব্ল্যাক ডায়মন্ড’এর দুখানা বই কিনে ফেললাম আমাজনে, আসবে কিছুদিন পরে – পিডিএফ আছে অবশ্যই , কিন্তু বইগুলোও থাক।

Received 01252022
Posted in 01.Blog, 02. Asansol, Favourites | Tagged , , | Leave a comment

Reading in 2021

2021 has been a tough year in a very different way from 2020. There was a despondence to 2020, a lot more desperation. 2021 brought acceptance, a level of this-too-shall-pass tranquility, and a lot more thankfulness for what we have got. Perhaps some impassiveness too?

I read a considerable lot more this year than I normally do. A lot-of re-reads, but a lot of new reads as well. I have got a bit of discipline about my reading habit, which I never had previously. For at least a couple days a week, I would wake up early and sit on our balcony with a book for an hour to start the day. And for the days when sleep is a problem, I would put myself to sleep with a re-read of a classic from my childhood.

Anyway, here are my top -10 reads for the year. 2020’s best-books update was in Bangla, so naturally, 2021’s Top-10 has to be in English.

Aranyak ( আরণ্যক ), by Bibhutibhushan Bandyopadhyay – is the best book I read this year, in a year of excellent reads. A classic of the Bengali language, it is at once a paean to nature (oh, what descriptions! I could smell the forests), a call to arms for conservation and against deforestation, and a detailed examination of how a part of India lives. Essential reading. Available in translation too.

A Coffin for Dimitrios, by Eric Ambler – is fascinating. One of the pillars on which the template for the classic international thriller is built, it is a delight which I am sure I will revisit in the future. And there are so many crevices and detours in the story which could well be fascinating full-length novels in themselves!

A Month in the Country, by J.L. Carr – is absolutely lovely. A bright little mood-piece of a novella, it’s become an instant favourite of mine. The delightful little story of painting-restorer and former soldier Tom Birkin, and the one month he spent in Oxgodby in Yorkshire to restore a mediaeval painting in a church there – is the most joy I found in reading in a long, long time. Lovely, lilting, poetic prose, and joie de vivre.

Shekol Chhera Hater Khoje ( শেকল ছেঁড়া হাতের খোঁজে ), by Samaresh Basu – is an exceptional political novel. When I was very small, Samaresh Basu reigned as the most famous of all Bengali novelists, but is rather forgotten these days. I have just started exploring his writings, and this one, the story of formerly-hallowed-and-now-exiled Communist-party-leader Nawal Agaria – and his looking back at the years and decades and even perhaps centuries that had led to this day, is excellent literature.

Half Lion: How P.V. Narasimha Rao Transformed India, by Vinay Sitapati – is the life and journey of one of my favourite Indian politicians from the past. A person of non-existent personal charisma and one of the forgotten old fogeys, Narasimha Rao came to power by happenstance in the aftermath of tragedy, and in just one term of five years, transformed the trajectory of the country from a limping also-ran to one worth its weight. It’s academic and detailed (and non-hagiographic), but also extremely readable. Not dense at all.

Djinn Patrol on the Purple Line, by Deepa Anappara – is achingly good. It’s the story of three depressingly poor kids, Jai, Pari and Faiz, who live in a shanty not far from the city of Delhi – who decide to investigate the disappearance of kids in their neighbourhood. I haven’t read a better novel in Indian English in the last 5 years.

Razorblade Tears, by S.A. Cosby – is an excellent modern thriller. Fast, brutal, coarse, emotional, sharp. This is how to write a thriller. Two old ex-cons from Richmond VA, one black and the other white, get together to get back at the folks who had killed their sons (who were married to each other). Watch the movie when it does come out.

Ei Dweep, Ei Nirbason ( এই দ্বীপ, এই নির্বাসন), by Manoj Bhaumik – had been a pleasant surprise! Manoj Bhaumik was one of the first generation of educated white-collar Indians who travelled to the US for work, and stayed around the New York City area. This is the story of the lives of those folks. An absolutely delightful novel, completely forgotten even in his native Bengali. Remember Ashoke Ganguli? Ashima’s husband, Gogol’s dad? If he’d have written a novel, this would have been it.

The Three-Body Problem, by Cixin Liu – is monstrously good! I cannot wait to get my hands on the next parts of the ‘Remembrance of Earth’s Past’ series. First warning: This is a true Hard-Science-Fiction story, so if you are not very familiar with at least high-school level science, you might struggle. But if you are, you have to pick this up! The reputation of the series is well-founded.

City of Thieves, by David Benioff – was surprisingly good, and got another novel with a similar theme, The Bridge of Sighs by Olen Steinhauer, out of my top-10. World War II Saint Petersburg / Leningrad, an unlikely friendship, an impossible (and trivial) pursuit, the brutalities of war, love in the most unexpected – all dealt with a delightful lightness of touch.

Posted in 01.Blog, Recently Read, Unpublished | Leave a comment

বৃষ্টি ভেজা বাংলা ভাষা – জয় গোস্বামী

কে মেয়েটি হঠাৎ প্রণাম করতে এলে ?

মাথার ওপর হাত রাখিনি
তোমার চেয়েও সসংকোচে এগিয়ে গেছি
তোমায় ফেলে
ময়লা চটি, ঘামের গন্ধ নোংরা গায়ে,
হলভরা লোক, সবাই দেখছে তার মধ্যেও
হাত রেখেছ আমার পায়ে

আজকে আমি বাড়ি ফিরেও স্নান করিনি
স্পর্শটুকু রাখব বলে
তোমার হাতের মুঠোয় ভরা পুষ্করিণী
পরিবর্তে কী দেব আর? আমার শুধু
দু’ চার পাতা লিখতে আসা

সর্বনাশের এপার ওপার দেখা যায় না
কিন্তু আমি দেখতে পেলাম, রাঙা আলোয়
দাঁড়িয়ে আছে সে-ছন্দ, সে-কীর্তিনাশা
অচেনা ওই মেয়ের চোখে যে পাঠাল
দু’-এক পলক বৃষ্টিভেজা বাংলা ভাষা

Posted in Bengali Poetry | Tagged , , , , , | Leave a comment

Words | Mangalesh Dabral

Some words scream
Some take off their clothes
And barge into history.
Some fall silent.

translated by Arvind Krishna Mehrotra

Posted in Translated Poetry | Tagged , , , , | Leave a comment

Frederick Forsyth – Day of the Jackal | a piece of childhood memorabiila

ফ্রেডেরিক ফরসীথের “ডে অভ দা জ্যাকাল” হলো আমার প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যে লেখা প্রথম থ্রিলার বই ।

বইটা কিন্তু আমি পড়ি নি. ক্লাস ৬ তে আমাদের ক্লাস শিক্ষক ছিলেন ক্লিফি স্যার (স্বনামধন্য শ্রী ক্লিফোর্ড ড্র্যাগউইজ, সেন্ট ভিনসেন্ট আসানসোল, আর তারপর সেন্ট মেরি’স মাউন্ট আবু’র মিডল স্কুলের সর্বজনপ্রিয় শিক্ষক) – তিনি জানতেন, সারাদিন পড়াশুনো করে, কাঠফাটা রোদ্দুরে বল পিটিয়ে, দিনের শেষ ক্লাসে ছেলেদের পড়াশুনো করার ইচ্ছে বা ক্ষমতা দুটোই থাকবে না। সেই জন্যে সপ্তাহের দুতিনদিন শেষ ক্লাসটি বরাদ্দ থাকতো গল্পের জন্যে। এক একটি গল্প ক্লিফি স্যার দু এক মাস ধরে বলতেন , পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে:
পুরো ক্লাস ৬ তে তিনি আমাদের তিনটে গল্প শোনালেন
১. আরভিং ওয়ালেসের সেকেন্ড লেডি
২. সিডনী শেলডন’এর “দা উইন্ডমিলস অভ দা গড’স “
৩. ফ্রেডেরিক ফরসীথের “ডে অভ দা জ্যাকাল”

তিনটিই প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য লেখা থ্রিলার বই, আমাদের মতন কচিকাঁচাদের জন্য ক্লিফি স্যার বলতেন রগরগে অংশগুলি বাদ দিয়ে, বলাই বাহুল্য । থ্রিলার হিসাবে তিনটিই বেশ উঁচু দরের টানটান লেখা, আর ক্লিফি স্যার’এর স্টাইলিশ সপ্রতিভ গলায় সেইটে হয়ে উঠতো অত্যন্ত উপাদেয় একটি বস্তু।

শিক্ষক মাত্রেই ভালো গল্প-বলিয়ে হয়, সেটা বুঝতে পারলাম যখন ক্লাস ৭ আর ৮ এর শিক্ষক-রাও দু তিনটে গল্প বললেন পরের দুই বছরে (সিডনী শেলডন’এর “দা নেকেড ফেস ” ; আর আর্ল স্ট্যানলি গার্ডনারের সাকার পাঞ্চ মনে আছে ) । কিন্তু গল্প বলায় ক্লিফি স্যার এর ধারেকাছে কেউ আসতেন না।

তখন ইন্টারনেট ছিল না, আমাদের স্কুলের উঁচু ক্লাসের লাইব্রেরি থেকে বই ধার করতে দিতো না, (আর ক্লাস সিক্সের লাইব্রেরিতে ফ্রেডেরিক ফরসীথ বা সিডনী শেলডন স্বাভাবিকভাবেই থাকতো না) – আমার মনে আছে অন্য কয়েকজন ছাত্রদের ক্লাস ৭ এর দাদাদের কাছে ঝোলাঝুলি করতে – গল্পের তারপর কী হলো জানার জন্যে । সেকেন্ড লেডি বোধহয় ওপরের ক্লাসকে শুনিয়েছিলেন ক্লিফি স্যার , সেজন্যে ওই চমকদার শেষটা নষ্ট হয়ে গেলো- অভিজিৎ না সৌরভ, কে যেন এসে বললো – জানিস জানিস… স্পয়লার ! ইশশ কী আফসোস ! কী আফসোস! জ্যাকাল শোনানোর সময়, আমাদের পরম সৌভাগ্য, সেটা হয়নি।

যখন ক্লিফি স্যার জ্যাকাল বলছেন – মনে আছে, যখন গল্পের শেষ দিন, তখন টেনশন নেয়ার আমাদের অবস্থাই নেই. দিনের প্রথম সাত-টা ক্লাসে যে কী হলো কেউ জানে না ! টিফিনেও একই কথা আমাদের মধ্যে – কী হবে? কী হবে? শার্ল দে গল বাঁচবেন? না জ্যাকাল ই জিতবে?
তারপর , যখন শেষ হয়ে গেলো , তখন … পুরো ক্লাস থমথমে! বাড়ি ফিরলাম একটা খালি খালি ভাব নিয়ে – গল্পটা শেষ। এবার?

আমার ছোটবেলাটা বড্ড ভালো কেটেছে !

Posted in 01.Blog, Favourites, Unpublished | Tagged , , , , , | Leave a comment

Ghost World – By Daniel Clowes (A review in Bengali)

দেবকুমার মিত্র ভারতবর্ষের সেরা কমিক্স / গ্রাফিক নভেল বোদ্ধা এবং শিক্ষকদের মধ্যে একজন।  আমার সৌভাগ্য-ই বলতে পারেন, যে আমার সুযোগ হয়ে গেলো তাঁর ‘comics and graphic novels appreciation ‘ নামক একটি  অনলাইন কোর্স এ অংশগ্রহণ করার।  একেবারে অজ্ঞ না হলেও (মানে standard stuff , ওয়াচমেন , ডার্ক নাইট রিটার্নস, পার্সেপোলিস, আর বাচ্চা বয়েসে টিনটিন এস্টেরিক্স DC কমিক্স অমর চিত্রকথা নারায়ন দেবনাথ ময়ূখ চৌধুরী – ওসব পড়েছি), জানি কম, বুঝি কম – ন্যারেটিভ ফলো করতেই জানি, ব্রেইডিং – ফেইডিং বুঝি না।  অ্যালিসন  বেকডেল,  স্পিগেলম্যান , স্যাকো – এদের নাম শুনেছিলাম, পড়ি নি।  ম্যাকক্লাউড দের তো নাম ও শুনি নি.  বুঝতাম না, rather . কয়েকটা ক্লাস করে এখন তো মস্তিষ্কের প্যানেল গাটার সবকিছু একসাথে খুলে যাচ্ছে। অসাধারণ , লাইফ-চেঞ্জিং কোর্স একেবারে। এ নিয়ে পরে আবার লিখবো, অন্য কোনো গুডরিডস রিভিউ তে.

যাকগে – ভনিতা শেষ. আমার ২০২১ সালের প্রথম বই হলো একটি গ্রাফিক নভেল, ড্যানিয়েল ক্লোস-এর গোস্ট ওয়ার্ল্ড।

বইয়ের প্রধান চরিত্রদ্বয় ইনিড আর রেবেকা (বেকি), সবেই প্রাপ্তবয়স্কা মার্কিন লেট-টিন , তবে ১৮ বছর বয়েস হলেই কী আর কেউ বড় হয়ে যায়? স্কুল শেষ – তাহলে কী এবার কলেজ? না অন্য কিছু?

তাদের জীবনের এই সময়টার কয়েকটা মাসের দলিল এই বই।  

তারা নিজেদের মতন করে জীবনকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখছে – জীবনকে বুঝতে শিখছে। বন্ধু হলেও – এরা ঠিক জয়-বীরু টাইপের বন্ধু নয়. এ বন্ধুত্বতে গভীরতা আছে, সমন্বয় আছে, একটি হালকা সমকামী আভাস-ও আছে; আবার ঈর্ষা, সন্দেহপরায়ণতা – কিছুমাত্রায় bullying ও নেই তা নয়. অর্থাৎ জটিল সম্পর্ক –

কার্ডবোর্ড ফিল্মি নয়। যেরকম সাধারণ মানুষের হয়।

দুজনের আর্থসামাজিক অবস্থা হয়তো একদম এক-ই নয় , ইনিড উচ্চমধ্যবিত্ত, বেকি হয়তো তার থেকে কিছুটা কম. ইনিড পড়াশুনোয় ভালো, বাবার সামর্থ আছে – হয়তো কলেজে যাবে। বেকি নীল-চোখ, সোনালী-চুল সুন্দরী।  এ নিয়েও দুজনের মধ্যে সামান্য কমপ্লেক্স নেই তা নয়.

দুইজন-ই বেশ নাইহিলিস্টিক, একটু বেশিমাত্রায় সিনিক্যাল, রুঢ়প্রকৃতি এবং রুক্ষভাষী – ১৮-বছরের কিছুটা মিসফিট বাচ্চারা যেরকম হয়. একটি নিতান্তই downmarket কফি-পার্লার-এ বসে আশেপাশের পৃথিবীকে, শহুরে সভ্যতাকে  দেখছে তারা – ব্যাঙ্গ করছে, টিটকিরি দিচ্ছে – আর নিজেদেরকেও চিনতে শিখছে। নিজেদের কমপ্লেক্স, ভয়, সংশয়, নিরাপত্তাহীনতা, একাকীত্ব , ভালোবাসা, রাগ, ঘৃণা, অভিমান – এগুলোকেও বুঝতে শিখছে।

স্লাইস-অফ-লাইফ গল্প এটা – ন্যারেটিভ ফিক্শন নয় , বলাই বাহুল্য যে গল্পের শেষে সাংঘাতিক কিছু একটা উপলব্ধি হবে না – উপলব্ধি ছড়িয়ে আছে বইয়ের প্রতি পাতায়, প্রতি প্যানেলে।

একটা কঠিন প্রশ্ন : বইটা যেহেতু আমার বেশ লেগেছে। তবে একজন তুলনামূলক-ভাবে বয়স্ক পাঠক হিসাবে আঠারো-বছরের চরিত্রদের নিয়ে লেখা বইটার সঙ্গে relate করতে সমস্যা হবে না? মানে, ক্যাচার ইন দা রাই – টাইপের বইয়ের সঙ্গে তো আর মধ্য-তিরিশে relate করা যায় না…

আমার উত্তর – কিছুটা হয়তো হবে. তবে ধরে নিন – ক্যাচার ইন দা রাই – ১৮-বছর বয়স্কদের জন্যেই লেখা। ওই ফোনি হ্যান ফোনি ত্যান মধ্য-কুড়িতেই বেশ meh লাগে। আমার অন্ততঃ ক্যাচার ইন দা রাই সেরকমই লেগেছে।  সেই তুলনায় গোস্ট ওয়ার্ল্ড বোধহয় আপনার পড়ার সেরা সময় ওই মধ্য-কুড়িতেই। গল্পের চরিত্রদের সঙ্গে একটু বয়সগত দূরত্ব , আর সেই দূরত্বজনিত পার্সপেক্টিভটা হয়তো চরিত্রদের বোঝার জন্য ভালো। সাদা কালোর মাঝখানের জগতের সঙ্গে একটু পরিচয় থাকলেই হয়তো এই বইটা সবচেয়ে ভালো বোঝা যায়।  

তবে আমার মতো বুড়ো হাবড়ার ও তো বেশ লাগলো। পড়ে দেখতে পারেন।

Recommended, and a strong 4 on 5.

(Crossposted at Goodreads)

Posted in 01.Blog, Favourites, Recommendation, Unpublished | Tagged , , , | Leave a comment

India in Australia Sydney 2021

It was a busy morning at work, and there were some Diego-management responsibilities for me too. So, I was watching the final day’s play on the computer, with Diego on my lap, and sometimes having to flip from Video to Audio-only. The match has already been praised to the high heavens, and for reason. It was one for the ages, and it brought back memories.
I was a little bit younger than seven when, sitting with my baba and half-dozing-off, I saw the goal that eventually led to Diego having the name he has. I do not really remember the match. And Diego would not remember this match, jumping about and playing with his excavator toy as he was, while the match was being played out.
But then he will grow up, and he will know that he had watched this match with his baba. And he will hear about this match from me, and from others who would describe it far better than I could.
Just as I do, about that match, all of 34 years hence.


And I would not mind if he names his son Ashwin.

Posted in Unpublished | Tagged , | Leave a comment

First drawing in a million years !

I am attending a pretty exhaustive course on comics and graphic novel appreciation, by the legend that is Debkumar Mitra. It is an absolutely amazing course, from the first two days of attending. I am struggling under the deluge of information, but am learning a bucketload.
Debu da had told us that the way to truly appreciate comics is to get ink on your fingers.
I had previously let him know that I could not even draw a straight line. I have never drawn anything in all my life. Seriously, nothing. Even regular kiddie drawings for Diego – Rashee does. I can write a decent yarn I think, so my plan was to learn how to translate a story to panels…
But the coursework today was to make a panel without words and with a character, which would nevertheless tell a lot that one need to know about that character. So I created a panel / storyline and sent out to the instructor.
But Debu da emailed back — the story is okay, but now you draw. You can do it ….
So I did. My first drawing in 35 years.

Posted in Uncategorized, Unpublished | Tagged | Leave a comment

Reading in 2020

খুব বেশি পড়া হয়নি। সেলস এ কাজ করি- ফোনে ফোনেই তো বচ্ছরকাল কেটে গেলো (আর zoom অফকোর্স )। চাকরী তো বাঁচাতে হবে, তবে তো বইটই ।  

একগাদা সিরিজ দেখেছি নেটফ্লিক্স -এ, প্রাইম -এ — সেক্রেড গেমস, সিরিয়াস ম্যান আগেই পড়া ছিল, সিরিজ দেখে ফেললাম। স্যুটেবল বয় শ – দুয়েক পাতা অবধি এগিয়েছিলাম, তবে সেতো সিন্ধুতে বিন্দু।  সিরিজ দেখে অন্ততঃ শেষ-টা জানা হয়ে থাকলো।  

দশ-এগারোটা বই পড়েছি।

১. যে কথা বলোনি আগে – শ্রীজাত

বিন্দুমাত্র ভালো লাগেনি।  অসম্ভব সুন্দর কবিতা লেখেন ভদ্রলোক, সাদামাটা ভাষায় , সোজা করে, আমাদের মতন গোমুখ্যু, বুদ্ধুরাও যেন বুঝতে পারি। উপন্যাস, নাহঃ।  

২. ছায়া সরণীতে রোহিনী – মতি নন্দী

নিতান্ত-ই সাধারণ-মানের।

মতি নন্দী আমার প্রিয় লেখকদের একজন – এই বইটা না পড়লেই খুশি হতাম হয়তো।  ছোটবেলায় এসব বুঝতে পারতাম না, কিন্তু the male gaze in this novel is seriously disconcerting, আর সেটা একজন পুরুষ হয়েও আমি বুঝতে পারছিলাম।

৩. শারদীয়া কিশোর ভারতী ১৩৮৭

জানুয়ারিতে গড়িয়াহাটে পুরনো বইয়ের দোকান থেকে কিনে আনলাম অনেক দরদাম করে . তারপরে একটু একটু করে হয়তো পুরোটাই পড়ে ফেলেছি এই শাটডাউনের সময়. গল্প উপন্যাস সবগুলোই যে এখনো dated হয়ে যায়নি তা নয়. কয়েকটা গল্প একদম অসাধারণ, কয়েকটা হয়তো এক-দু পাতা পড়েই নামিয়ে রাখতে হয়. কিন্তু এই সব পুরনো জিনিস পড়ার (পড়ার বা নিছক কালেকশনে রাখার) মজাই আলাদা. আমার আসানসোল, আমার গ্রীষ্মকাল, আমার মামার বাড়ি, আর আমার মামার বাড়ির কিশোর ভারতী.

স্মৃতি .

4. What’s Wrong with You, Karthik? – সিদ্ধার্থ বৈদ্যনাথন

অতি-বিখ্যাত ক্রিকেট-লেখক / সাংবাদিক সিদ্ধার্থ বৈদ্যনাথন তথা Sidvee -র এই প্রথম উপন্যাস।

প্রথমেই জানিয়ে রাখি, সিদ্ধার্থ আমার বেশ কাছের এক বন্ধু।  কলেজ-জীবন থেকে চিনি, একসাথে অনেক কুইজ প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়েছি, জিতেছি।  Cricinfo -য়  একদম প্রথম থেকে ওর লেখা পড়ি, খুব-ই পছন্দের ক্রিকেট -সাংবাদিকও । বলাই বাহুল্য, খুব একটা নিরপেক্ষ ভাবে বলতে পারবো না – আমার খুব-ই ভালো লেগেছে। কিন্তু গুডরীডস -এ ৪+ রেটিং, গাদাগুচ্ছের সমালোচকদেরও ভালো লেগেছে।  

পড়ে দেখতে পারেন। বোধহয় ভালোই লাগবে। 

৫ আর ৬. বংপেন ৭৫ / বংপেন আরও ৭৫ – তন্ময় মুখার্জী

চমৎকার।

বাণিজ্যক্ষেত্রে একটা কথা আছে – delivering to expectations – সেইটা ভদ্রলোক একদম নিখুঁতভাবে করেছেন। সুন্দর blog লেখেন, এককথায় internet celebrity – ক্ষুদ্র এক একটা অনু-গল্প , ছোট ছোট কিছু অনুভূতি, ছোট্ট একটু ভালো লাগা, ছোট্ট একটু দুঃখ — কখনো কখনো ছোট্ট একটা ‘ যাহ, এই গল্পটা খুব একটা দাঁড়ালোনা, পরেরটায় যাই’… তাতে কোনো দোষ নেই – এই তো জীবন।

ভালো লাগলো।  দুটোই।

৭. Newcomer – কেইগো হিগাশিনো

আমার মতে, পৃথিবীর যাবতীয় এখনো-জীবিত গোয়েন্দা গল্প লেখকদের মধ্যে, জাপানের হিগাশিনো হয়তো প্রথম বা দ্বিতীয় জায়গায় থাকবেন (কানাডার লুইস পেনি -র সাথে ) . হিগাশিনোর ‘ডিটেকটিভ গ্যালিলিও ‘ সিরিজ খুবই বিখ্যাত, কিন্তু তার থেকেও আমার বেশি প্রিয় ‘সার্জেন্ট কিয়োইচিরো কাগা ‘ সিরিজ।  এর প্রথম উপন্যাস, Malice আমার অসাধারণ লেগেছিলো।  Newcomer ও তার থেকে কোনমাত্রায় কম নয়.

৮. The Village by the Sea – অনীতা দেশাই

অক্টোবর-এর প্রথমদিকে অনীতা দেশাই-এর ‘a village by the sea ‘ পড়লাম। আহামরি কিছু লাগে নি। লেখিকার ভাষা সাংঘাতিক সুন্দর – মহারাষ্ট্রের উপকূলবর্তী ধীবর-সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রার এতো চমৎকার বিবরণ দুর্লভ। কিন্তু চরিত্রদের গভীরতা খুব একটা খুঁজে পেলাম না – গল্পের মধ্যে তাৎপর্যকর কোনো উপলব্ধি নেই। ভাইবোন হরি আর লীলার চরিত্রগুলোকে যেন ঠিক পুরো বুঝে উঠতে পারলাম না। লীলাকে তাও কিছুমাত্রায় বুঝতে পারি – হরিকে একটুও না। উপন্যাসটি হয়তো কিশোর-উপন্যাস হিসাবে কিছুমাত্রায় চলতে পারে। কিন্তু মনে খুব সাংঘাতিক দাগ কাটলো না। পড়া যায়, যদিও। লেখিকার ভাষা সাবলীল, সংযত ।

৯. আদর্শ হিন্দু হোটেল – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

অক্টোবর – এর শেষে আর নভেম্বর-এ পড়লাম বিভূতিভূষণ-এর আদর্শ হিন্দু হোটেল।

পড়ে মুগ্ধ হলাম। অনীতা দেশাই-এর উপরোক্ত বইটির সঙ্গে হয়তো কিছুটা মিল রয়েছে , গ্রাম্য সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের সুন্দর বিবরণে – কিন্তু শ্রীমতি দেশাই-এর লেখা পড়ে যেন পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় যে তিনি উপন্যাসটি একজন বহিরাগতর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লিখলেন – চরিত্রদের যেন ঠিক ধরে উঠতে পারলেন না । বিভূতিভূষণ অপরদিকে যেন তাঁর মূল চরিত্র হাজারি দেবশর্মার মনের মধ্যে প্রবেশ করে তাঁর বইটি লিখেছেন। বিভূতিভূষণের বেশি কিছু পড়া হয়নি – সময় হলে আরো পড়বো , ইচ্ছে রইলো।

১০. কেরী সাহেবের মুন্সী – প্রমথনাথ বিশী

এইটে এখনো পড়ছি।  শেষ হয়ে এলো বলে।  সাংঘাতিক জিনিস। শেষ হলে ভালো করে জানাবো।

আর…

১১. The Story of Ferdinand – মনরো লীফ

এই বইটি হয়তো খান-দশেক-বার পড়া হয়েছে। আমার খুদে পুত্রের প্রথম তথা প্রিয় বই – বারবার না পড়ার উপায় আছে?

Posted in Uncategorized | 1 Comment